শেখ আজমল হুদা, ভালুকা প্রতিদিন:
আফতাব উদ্দিন চৌধুরী চাঁন মিঞা ছিলেন খান সাহেব আবেদ উল্লাহ চৌধুরী ও বড় কর্ত্রী হালিমুন্নেসা চৌধুরানীর জ্যেষ্ঠ পুত্র। তিনি ১৯১২ সনে জন্মগ্রহন করেন। প্রথম জীবনে তিনি মল্লিকবাড়ি ইউনিয়ন বোর্ড এবং পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৬৫ সনে সমগ্র পাকিস্তানে সর্বোচ্চ সংখ্যক ভোট পেয়ে তিনি ভালুকা-ফুলবাড়িয়া-গঁফরগাও আসন থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ সদস্য (এম.এন.এ) নির্বাচিত হন। তিনি ছিলেন ঢাকা ময়মনসিংহ মহা সড়কের রূপকার।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ পরিচালনা পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে তিনি সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭৯ সনে তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গফরগাঁও সরকারি কলেজ, ভালুকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়সহ অনেক মসজিদ ও মাদ্রাসার নির্মাণ করেন।
তিনি ছিলেন বাংলাদেশের একজন অনন্য ইসলামিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর সময়ে ভালুকা চৌধুরী বাড়িতে পৃথিবীর বিখ্যাত ওলামা মাশায়েখগন আতিথ্য গ্রহন করতেন। তিনি ইসলামের মূলনীতির উপর অবিচল থেকে জীবন পরিচালনা করতেন। ১৯৮৫ সনের ২৪ শে জুলাই সকাল এগারটার দিকে মহান আল্লাহ তায়ালার ডাকে সাড়া দিয়ে এই দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে পরকালে চলে যান।
তাঁর বাড়ি ময়মনসিংহ জেলা ভালুকা উপজেলা ৪নং ধীতপুর ইউনিয়ন রান্দিয়া গ্রামে। বাড়ির উত্তর দক্ষিণে বিশাল আকৃতির দুটি পুকুর। পুকুরের পাড়ে বকুল ফুল গাছ দন্ডয়মান। ধান রাখার জন্য গোলাঘর ৪/৫টি। পশ্চিমপার্শ্বে নিজস্ব ভূমিতে সেচ দেওয়ার জন্য গভীর নলকূপ। পরবর্তিতে মল্লিকবাড়ী ইউনিয়ন বর্তা গ্রামে বসবাস শুরু করেন।

বর্তমানে তাঁর বংশধররা দেশ বিদেশে বসবাস করলেও ধামশুর গ্রামে যেদিকে চোখ যায় সেইদিকে (কথিত) নিজস্ব ভূমির উপর খিরু নদীর পাড় ঘেষে রাজকীয় বাড়ি দৃশ্যমান আখিতে পড়বে সবার।
ভালুকার ইতিহাসে অন্যতম কিংবদন্তি পাকিস্তানের সাবেক জাতীয় পরিষদ সদস্য ও বাংলাদেশের সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য বিশিষ্ট্য রাজনীতিবিদ, শিক্ষানুরাগী, সাহিত্যিক, দানবীর ও ইসলামি চিন্তাবিদ মরহুম আফতাব উদ্দিন চৌধুরী চাঁন মিঞার ৪০ তম ছিল মৃত্যু বার্ষিকী। তাঁর আত্মার মাগফেরাতের জন্য ২৪ জুলাই বৃহস্পতিবার আসরবাদ ভালুকা কেন্দ্রীয় বড় মসজিদে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
চাঁন মিঞার পিতা মরহুম খান সাহেব আবদুল্লাহ চৌধুরীও ছিলেন একজন ভালো মানুষ। তাঁর নির্দেশে সমসাময়িক বেশ ক’জন বিশ্বস্ত লোক মনসুর আলী খান, মনসুর আলী খান, জয়েদ আলী ও জয়েদ খানের সহযোগিতায় ভালুকা বাজার সৃষ্টি করে ছিলেন।

উক্ত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখেন মরহুম আফতাব উদ্দিন চৌধুরী চাঁন মিঞার পুত্র আমিন উল্লাহ চৌধুরী সবুজ, ভালুকা পৌর বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব হাতেম খান, ভালুকা উপজেলা শাখা জাতীয় নাগরিক পাটি (এনসিপি) প্রধান সমন্বয়কারী বীর মুক্তিযোদ্ধা আশরাফ উদ্দিন, বিএনবি নেতা আনোয়ার হোসেন বাদল, ডাকাতিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক রফিকুল ইসলাম নান্নু।
আরও উপস্থিত ছিলেন আহসান উল্লাহ চৌধুরী (বড় বাবু), ভালুকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়েল প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, চাপড়বাড়ী দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. মোবাশ্যারুল ইসলাম সবুজ।
আলহাজ্ব হাতেম খান বলেন, ঢাকা-থেকে ময়মনসিংহ যে সড়কে আমরা যাতায়াত করি সেই সড়কটির রূপকার ছিলেন মরহুম আফতাব উদ্দিন চৌধুরী চাঁন মিঞা, তিনি অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে গেছেন, এছাড়াও মসজিদ মাদ্রাসা নির্মাণ করেছেন, তাঁর অবদানের কথা আমরা কখনো ভুলার মতো না।
ভালুকা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, মানুষ বাঁচে তাঁর কর্মের মাঝে, মরহুম আফতাব উদ্দিন চৌধুরী চাঁন মিঞা ছিলেন সব কিছুর ঊর্ধ্বে, সব শ্রেণি পেশার মানুষ আজও বার বার তাঁর কথা বলে।

