নিজস্ব প্রতিবেদক, ভালুকা প্রতিদিন:
ময়মনসিংহের ভালুকায় মা ও দুই শিশু সন্তান সহ তিনজনকে গলাকেটে হত্যার অভিযুক্ত নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (১৫জুলাই) বিকাল ৫টায় গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলস্টেশন এলাকা থেকে ভালুকা মডেল থানারন অফিসার ইনচার্জ হুমায়ুন কবির এর নেতৃত্বে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃত নজরুল ইসলাম নেত্রকোনা কেন্দুয়া উপজেলার কৃত্তনখোলা সেলের বাজার এলাকার সন্তুু মিয়ার ছেলে।
সে ভালুকায় স্ত্রী ময়না বেগম (২৫), মেয়ে রাইসা (৭) ও ছেলে নিরব (২) খুনের ঘটনায় ময়নার ভাই জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানায় গতকাল সোমবার একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং- ২৫। নজরুল গাজীপুরের একটি হত্যা মামলার আসামী হয়ে দুই বছর জেলে ছিলেন। তাকে আড়াই মাস আগে ৪০ হাজার টাকা ঋণ করে জামিনে ছাড়িয়ে এনেছল তার সহোদর বড় ভাই রফিকুল ইসলাম।

উল্লেখ, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কৃত্তনখোলা সেলের বাজার এলাকার সুলতো মিয়ার ছেলে স্থানীয় রাসেল স্পিনিং মিলের শ্রমিক রফিকুল ইসলাম ও তার ছোট ভাই অটো চালক নজরুল ইসলাম গত দেড় মাস পূর্বে খারুয়ালি এলাকার হাইয়ূম মিয়ার দুই রুম বিশিষ্ট একটি বাসা ভাড়া নেন। ১৩ জুলাই রোববার রাতে স্ত্রী সন্তানকে বাসায় রেখে রফিকুল ইসলাম কর্মস্থলে চলে যান। ডিউটি শেষ করে ঘটনার দিন সোমবার সকালে রফিকুল ইসলাম বাসায় এসে ঘরের বারান্দায় বাহির থেকে তালা লাগানো দেখে তার স্ত্রীকে ডাকা ডাকি করেন। বেশ কিছু সময় ডাকা ডাকির পর কোন সারাশব্দ না পেয়ে বাসার মালিক ও মালিকের স্ত্রীকে ডেকে আনেন। পরে তারা সকলে বারান্দার দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেখেন দুই সন্তান সহ রফিকুলের স্ত্রী মৃত অবস্থায় পরে আছে। ঘটনার পর থেকেই নিহতের দেবর নজরুল ইসলাম পালিয়ে যায়।
নিহত ময়নার স্বামী রফিকুল ইসলাম জানান, আমি সকাল আনুমানিক ৯ টার দিকে বাসায় এসে বারান্দায় তালা লাগানো দেখে আমার স্ত্রীকে ডাকাডাকি করে কোন সারাশব্ধ না পেয়ে বাসার মালিক ও তার স্ত্রীকে ডেকে এনে দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ডুকে স্ত্রী সন্তানকে গলাকাটা অবস্থায় দেখতে পাই।

