শেখ আজমল হুদা, ভালুকা প্রতিদিন:
ময়মনসিংহের ভালুকায় মা ও দুই শিশু সন্তাান সহ তিনজনকে গলাকেটে হত্যা করেছে। ভালুকা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড খারুয়াালি এলাকায় ফাইয়ুম মিয়ার ভাড়া বাসায় এই নির্মম হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।

সোমবার (১৪ জুলাই) সকালে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ তিনটি মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। নিহতরা হলেন ময়না বেগম (২৫), মেয়ে রাইসা (৭) ও ছেলে নিরব (২)। নিহতরা সকলেই নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার সেনের বাজার গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকেই নিহত ময়না বেগমের দেবর নজরুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার সেনের বাজার গ্রামের মন্তু মিয়ার ছেলে স্থানীয় রাসেল স্পিনিং মিলের শ্রমিক রফিকুল ইসলাম ও তার ছোট ভাই অটো চালক নজরুল ইসলাম গত দেড় মাস পূর্বে খারুয়ালি এলাকার ফাইয়ুম মিয়ার দুই রুম বিশিষ্ট একটি বাসা ভাড়া নেন। ১৩ জুলাই রোববার রাতে স্ত্রী সন্তানকে বাসায় রেখে রফিকুল ইসলাম কর্মস্থলে চলে যান।

ডিউটি শেষ করে ঘটনার দিন সোমবার সকালে রফিকুল ইসলাম বাসায় এসে ঘরের বারান্দায় বাহির থেকে তালা লাগানো দেখে তার স্ত্রীকে ডাকা ডাকি করেন। বেশ কিছু সময় ডাকা ডাকির পর কোন সারাশব্দ না পেয়ে বাসার মালিক ও মালিকের স্ত্রীকে ডেকে আনেন। পরে তারা সকলে বারান্দার দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেখেন দুই সন্তান সহ রফিকুলের স্ত্রী মৃত অবস্থায় পরে আছে। ঘটনার পর থেকেই নিহতের দেবর নজরুল ইসলাম পলাতক রয়েছে।

নিহত ময়নার স্বামী রফিকুল ইসলাম জানান, আমি সকাল আনুমানিক ৯ টার দিকে বাসায় এসে বারান্দায় তালা লাগানো দেখে আমার স্ত্রীকে ডাকাডাকি করে কোন সারাশব্দ না পেয়ে বাসার মালিক ও তার স্ত্রীকে ডেকে এনে দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ডুকে স্ত্রী সন্তানকে গলাকাটা অবস্থাথায় দেখতে পাই। কে বা কারা আমার স্ত্রী সন্তানকে হত্যা করেছে আমি কিছুই বলতে পারছিনা। আমি এই হত্যাকান্ডের বিচার চাই।
বাসার মালিক ফাইয়ুম জানান, রফিকুল ইসলাম প্রায় দেড়মাস পূর্বে আমার বাসা ভাড়া নেয়। কে বা কারা এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে আমরা জানি না। স্থানীয়রা জানান, রফিকুলের স্ত্রী ময়না শান্ত স্বভাবের তাকলেও পলাতক নজরুল ইসলাম বিভিন্ন ছোট ঘাটো অপরাধের সাথে জড়িত ছিলেন।
খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দা ও রক্তমাখা একটি বিছানার চাদর জব্দ করে ও নিহতদের মরদেহ থানায় নিয়ে আসে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) মনতোষ বিশ্বাস বলেন, ‘‘সকালে খবর পাই দুই শিশু বাচ্চাসহ গৃহবধুকে হত্যা করা হয়েছে, তিন জনের গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, ময়নার স্বামী ও দেবরকে নিয়ে বাসা ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতো, লাশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, মামলার প্রস্তুুতি চলছে।

